ডেস্ক রিপোর্ট | জাতীয়
শহিদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতিসংঘের অধীনে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবিতে আয়োজিত ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে সংগঠনটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ অন্তত শতাধিক নেতাকর্মী। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের একের পর এক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে ভিড় ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের মধ্যে নারী আন্দোলনকারীও রয়েছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আব্দুল্লাহ আল জাবের নেতাকর্মীদের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকা ত্যাগ করে শাহবাগে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পরিস্থিতি শান্তভাবে মোকাবিলা করার এবং কোনো ধরনের উসকানিতে না জড়ানোর অনুরোধও করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় অতিক্রম করে যমুনা অভিমুখে অগ্রসর হলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে এবং একপর্যায়ে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে।
এতে পুরো ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকা ও আশপাশের অঞ্চল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আতঙ্কে সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা নিরাপদ স্থানে সরে যান।
ঘটনার পর শহিদ ওসমান হাদির স্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন,
“আমার একটা ভাইবোনগুলোর কিছু হলে আল্লাহর শপথ করে বলছি, এই দেশে আবার জুলাই নামবে। আমি আর আমার সন্তান ওর বাবার কাছে যেতে সদা প্রস্তুত। ইন্টেরিম—সিম্পল কথা, জান দিব, তবু জুলাই দিব না।”
ঘটনাটি ঘিরে রাজধানীতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।














