ইরান ও ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে—এই দুই দেশের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক মিত্র চীন কেন কার্যকরভাবে পাশে দাঁড়াচ্ছে না। বিশ্লেষকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় চীনের প্রভাব খর্ব করতেই যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে এই দেশগুলোর সরকারকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলব’-এর পর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী লক্ষ্য যে ইরান, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই দুই দেশ থেকেই চীন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করে। বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলা ও ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা গেলে চীনের জ্বালানি সরবরাহ ও বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধাক্কা লাগবে।
চীন বর্তমানে নিজস্ব জ্বালানি চাহিদার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ভেনেজুয়েলা ও ইরান সেই আমদানির গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলায় চীনের প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এবং তেলনির্ভর আর্থিক চুক্তিগুলো এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকায় গত দুই দশকে চীন বাণিজ্য ও ঋণের মাধ্যমে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। অঞ্চলটির অন্তত ২০টি দেশ চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এ যুক্ত। এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম গোলার্ধে চীনের উপস্থিতি একেবারেই না রাখার নীতি গ্রহণ করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
তবে ইরান বা ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চীন সামরিক বা প্রত্যক্ষ প্রতিরোধে যায়নি। কূটনৈতিক বিবৃতি ও নিন্দার মধ্যেই তাদের অবস্থান সীমাবদ্ধ। বিশ্লেষকদের মতে, চীন সরাসরি সংঘাতে না জড়িয়ে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের দিকেই মনোযোগ দিতে চাইছে।
বিশ্ব রাজনীতির এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—চীন কি আদৌ তার ‘বন্ধু রাষ্ট্র’গুলোর নিরাপত্তার ভরসা হতে পারছে? সিরিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলার অভিজ্ঞতা বলছে, মার্কিন আগ্রাসনের মুখে চীনের ভূমিকা এখনো প্রতীকী পর্যায়েই রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাস্তবতা ছোট ও স্বাধীনভাবে চলতে চাওয়া দেশগুলোর জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। কার্যকর বৈশ্বিক সংহতি ছাড়া আগ্রাসী পরাশক্তির বিরুদ্ধে টিকে থাকা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।















