বাণিজ্য ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৫৫
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ৭.০৮ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।
স্থানীয় পোশাক প্রস্তুতকারকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত পারস্পরিক শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই মার্কিন ক্রেতারা বড় অঙ্কের পণ্য আগেভাগে আমদানি করেছেন, ফলে বছরের শুরুতেই রপ্তানি স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেছে। গত বছরের এপ্রিলের একটি অংশ থেকে জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ১০ শতাংশের একটি সাময়িক ন্যূনতম শুল্ক আরোপ করেছিল, যা আগে থেকেই কার্যকর প্রায় ১৬ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মোট শুল্কহারকে প্রায় ২৬ শতাংশে নিয়ে যায়।
এরপর গত বছর ৭ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র দেশগুলোর ওপর আরও বেশি হারে শুল্ক কার্যকর করে। স্থানীয় রপ্তানিকারকরা জানাচ্ছেন, এই আগাম চালানের প্রভাবেই জানুয়ারি-অক্টোবর সময়ে রপ্তানির পরিসংখ্যান স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দেখাচ্ছে। তবে বছরের শেষ ভাগের প্রকৃত চিত্র এতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।
বাংলাদেশের জন্য শুরুতে গত বছরের এপ্রিলে ৩৫ শতাংশের কঠোর পারস্পরিক শুল্ক ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে তা সংশোধন করে ২০ শতাংশে নামানো হয়।
অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শুধু অক্টোবর মাসে দেশটির মোট পোশাক আমদানি কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ। তবে বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বেশ কয়েকটি প্রধান রপ্তানিকারক দেশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে।
ওটেক্সার তথ্যে আরও দেখা যায়, বাংলাদেশের পোশাকের একক দাম (ইউনিট প্রাইস) সামান্য কমেছে। রপ্তানিকারকরা মনে করছেন, এটি তীব্র প্রতিযোগিতা এবং মার্কিন খুচরা বিক্রেতাদের সতর্ক ক্রয়নীতির প্রতিফলন।
বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেছেন, “জানুয়ারি-অক্টোবরের পরিসংখ্যান পুরো বছরের প্রকৃত প্রবণতা পুরোপুরি তুলে ধরছে না। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতারাও পূর্ণাঙ্গ অর্ডার দিতে আগ্রহী হবেন।”















