ক্ষমতার অপপ্রয়োগ, স্বজনপ্রীতি ও নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের অভিযোগ তুলে #কথাবলোচবি শিরোনামে প্রতিবাদী ক্যাম্পেইন শুরু করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কার আন্দোলন। সাম্প্রতিক এক সিন্ডিকেট সভায় বিপুলসংখ্যক নিয়োগ অনুমোদনের পর ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর মূলত এমন আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা।
গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৫৩ জনের নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৯টি বিভাগে ৪৪ জন শিক্ষক, ৯ জন কর্মকর্তা এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ১০০ জন কর্মচারী রয়েছেন।

উপ-উপাচার্যের মেয়ে ও ভাগনের নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক
নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের মেয়ে মাহিরা শামীম, যিনি ফাইন্যান্স বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। একইভাবে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক কামাল উদ্দিনের ভাগনে সাঈদুর রহমান নিয়োগ পেয়েছেন ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগে।
এ ছাড়া ল্যাবরেটরি স্কুলের নিয়োগ বোর্ড সদস্য অধ্যাপক রেজাউল আজিমের স্ত্রী জান্নাতুন নাঈম ও শ্যালিকা জান্নাতুন আফরোজ–এর নিয়োগও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফাইন্যান্স বিভাগের চারটি প্রভাষক পদের বিপরীতে ৫১ জন আবেদন করেছিলেন। মেধা তালিকায় মাহিরা শামীমের সিজিপিএ ছিল ৩.৮০, যেখানে তাঁর ওপরে আরও ১১ জন প্রার্থী ছিলেন। শীর্ষ প্রার্থীর সিজিপিএ ছিল ৩.৯৫। তবু নিয়োগ পাওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ক্যাম্পাসে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ
নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই ক্যাম্পাসে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। সোমবার ড. এ আর মল্লিক ভবনের সামনে “বাবা, আমায় একটা নিয়োগ দেবে?” লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে এক ছাত্রনেতার একক প্রতিবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
প্রশাসনের ব্যাখ্যা, প্রশ্নে স্বচ্ছতা
নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান দাবি করেছেন, তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়েই যুক্ত ছিলেন না এবং নিয়োগ বোর্ডের সদস্যও ছিলেন না।
অন্যদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, বর্তমানে লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা ও ডেমোনেস্ট্রেশনের মাধ্যমে তিন ধাপে যাচাই করে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, সেরা ফলাফল করা প্রার্থীরাই নির্বাচিত হয়েছেন।
তবে সমালোচকদের মতে, লিখিত ও ডেমোনেস্ট্রেশনের দোহাই দিয়ে যদি মেধাতালিকায় পিছিয়ে থাকা নিকটাত্মীয়দের নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে নতুন নিয়োগ নীতিমালার উদ্দেশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
গত ১৫ মাসে ২৫০ নিয়োগ, আরও শতাধিক প্রক্রিয়াধীন
জানা গেছে, বর্তমান প্রশাসনের অধীনে গত ১৫ মাসে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে অন্তত ২৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ৩০৪ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান, যার মধ্যে ১৪১ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম উপাচার্য বরাবর চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া মূলত নিজেদের দল ভারী করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
ইউজিসির নজরদারির আশ্বাস
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান এস এম এ ফায়েজ বলেন, নিয়োগে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তবে নিয়ম মেনে নিয়োগে কোনো বাধা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
















