চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বেলা ১১টায় উপাচার্য দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতে ছাত্রসেনা নেতৃবৃন্দ ১৫ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন এবং উপহারস্বরূপ বই তুলে দেন।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত ১৫ দফা দাবি:
১. চাকসু নির্বাচন একাডেমিক ক্যালেন্ডারের অঙ্গীভূত করে নিয়মিত করতে হবে।
২. ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, পাহাড়-সমতল নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীর জন্য বৈষম্যহীন সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
৩. ক্যাম্পাস থেকে অস্ত্র ও মাদক নির্মূল করে অহিংস শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৪. শিক্ষক মূল্যায়ন, কারিকুলাম পর্যালোচনা ও গবেষণার মানোন্নয়নের মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
৫. শাটল ও ডেমো ট্রেনের সময় বৃদ্ধি এবং রাত ১০টা পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালু করতে হবে।
৬. প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আবাসন নিশ্চিত করতে নতুন হল নির্মাণ ও হলের সকল সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে।
৭. ক্যাম্পাসে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করে মাদকমুক্ত সবুজ ক্যাম্পাস বিনির্মাণ করতে হবে।
৮. নারী শিক্ষার্থীদের জন্য যৌন হয়রানিতে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন ও আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ চালু করতে হবে।
৯. সকল প্রশাসনিক কাজ অনলাইন ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে ডিজিটালাইজেশন করতে হবে।
১০. চাকসু ভবনে স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপন ও টিএসসি নির্মাণ করতে হবে।
১১. ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা বুথ ও ২৪ ঘণ্টা হটলাইন স্থাপন করতে হবে।
১২. মেধাভিত্তিক বৃত্তি বৃদ্ধি ও জব ফেয়ারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
১৩. বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ২৪ ঘণ্টা উন্নত চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
১৪. কেন্দ্রীয় ও হলের মাঠ সংস্কার করে নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা নিশ্চিত করতে হবে।
১৫. শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং সেবা চালু করতে হবে।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এখনও দীর্ঘ পথ চলা বাকি। রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, তবে আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি থাকবে না।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের মাঝে সম্প্রীতি বজায় রেখে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাবে। শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে সুস্থ সম্পর্ক এবং সহযোগিতাই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের চাবিকাঠি।”
ছাত্রসেনা চবি শাখার নেতৃবৃন্দ নবনিযুক্ত উপাচার্যকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রসেনা চবি শাখার সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন উদ্দীন সাকিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী হোসাইন জিসান, সাংগঠনিক সম্পাদক দৌলতুল ইসলাম সাকলাইনসহ মনিরুল আনোয়ার, মুহাম্মদ একে আজাদ, মোহাম্মদ মোহরাজ, শোয়াইবুল ইসলাম, মুহাম্মদ জাবের, হানিফুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান, সাব্বির হোসেন, সাবিদ হাসান, আশরাফ চৌধুরী, জিন্নুরাইন আসিফ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।


















