আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রকাশ: মার্চ ০৪, ২০২৬
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) চাপের মুখে ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মুজতবা খামেনিকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে। বুধবার (৪ মার্চ) সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এ তথ্য জানিয়েছে।
৫৬ বছর বয়সী মুজতবা খামেনি ইরানের শাসন ব্যবস্থার অন্যতম প্রভাবশালী কিন্তু আড়ালে থাকা ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ১৯৬৯ সালে মাশহাদে জন্ম নেওয়া মুজতবা বেড়ে ওঠেন শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির রাজতন্ত্রবিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনের সময়ে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি তেহরানে চলে আসেন এবং এলিট আলাভি হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে তেহরান ও কুমে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি।
মুজতবা একজন মধ্যম-স্তরের আলেম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সুপ্রিম লিডারের দপ্তরে আড়ালে শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। তার প্রভাবের পেছনে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ইরান-ইরাক যুদ্ধে তিনি হাবিব ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে গোয়েন্দা ও বাসিজ কমান্ডারসহ নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ে ওঠা ব্যক্তিদের সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সে সময় মার্কিন ট্রেজারি জানায়, আলি খামেনি তার কিছু ক্ষমতা ছেলের কাছে ন্যস্ত করেছিলেন এবং নির্বাচিত পদে না থাকলেও তিনি অনানুষ্ঠানিক প্রতিনিধির ভূমিকা পালন করতেন।
তবে তার উত্তরসূরি হওয়া সহজ ছিল না। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সুপ্রিম লিডার হতে হলে উচ্চপদস্থ ধর্মীয় আলেম এবং স্বীকৃত ধর্মীয় কর্তৃত্ব ও রাজনৈতিক সক্ষমতার অধিকারী হতে হয়। মুজতবা বর্তমানে আয়াতুল্লাহ পদমর্যাদা ধারণ করেন না। তা ছাড়া বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র উৎখাত করে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় বাবা থেকে ছেলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর একটি সংবেদনশীল বিষয় বলে মনে করা হচ্ছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) ইসরাইল-মার্কিন যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ওই হামলায় খামেনির মেয়ে, নাতি ও জামাই নিহত হওয়ার খবরও দেয় ইরানের সংবাদ মাধ্যমগুলো। এদিকে ওই হামলায় আহত আলি খামেনির স্ত্রী খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহও চিকিৎসারত অবস্থায় দুদিন পর মারা গেছেন।
ইরানি গণমাধ্যম ফার্স জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে মাশহাদে সমাহিত করা হয়েছে। মাশহাদ ইরানিদের কাছে একটি পবিত্র শহর। খামেনির জন্মও হয়েছিল এই শহরে। সেখানকার ইমাম রেজা মাজারে তার বাবাকেও সমাহিত করা হয়েছিল।
















