ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম তীব্র বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি ব্যবহার কমানো ও সরকারি ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহ থেকে দেশটির সব স্কুল-কলেজ দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন ক্লাস চালু করা হবে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য “হোম অফিস” বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিন বাড়ানো হচ্ছে।
সোমবার জাতির উদ্দেশে টেলিভিশন ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এসব ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। জ্বালানি সাশ্রয় ও সরকারি ব্যয় কমানোর জন্য এই পদক্ষেপগুলো অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে।”
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে প্রধান পদক্ষেপগুলো হলো:
- স্কুল-কলেজ দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস চালু
- সরকারি কর্মচারীদের জন্য হোম অফিস বাধ্যতামূলক; অফিসে মাত্র ৫০% কর্মী উপস্থিত থাকবেন
- সরকারি অফিস সপ্তাহে চার দিন খোলা থাকবে (সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো)
- সরকারি দপ্তরে জ্বালানি ভাতা ৫০% কমানো (দুই মাসের জন্য)
- বাস ও অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া সরকারি যানবাহনের ৬০% সাময়িকভাবে চলাচল বন্ধ
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের খরচ ২০% কমানো
- নতুন গাড়ি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও আসবাবপত্র কেনা বন্ধ
- মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের অধিকাংশ বিদেশ সফরে বিধিনিষেধ
গত সপ্তাহে পাকিস্তানে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৫৫ রুপি বাড়ানো হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে এককালীন সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। পাকিস্তান তার জ্বালানির অধিকাংশই আমদানি করে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির মূল্যস্ফীতির ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।
সোমবার পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, জ্বালানি দামের এই ঊর্ধ্বগতির কারণে মূল্যস্ফীতির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে নীতিগত সুদের হার ১০.৫ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জনগণের প্রতি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই কঠিন সময় অতিক্রম করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এই পদক্ষেপগুলো সাময়িক হলেও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
















