আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
যৌন অপরাধে দণ্ডিত জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে প্রকাশিত নতুন নথিতে উঠে এসেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি এপস্টেইন সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করলে বিষয়টি নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় আসে।
গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত এসব নথির মধ্যে রয়েছে প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠা দলিল, এক লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং দুই হাজার ভিডিও। এর মধ্যকার একটি ইমেইলে ২০১৭ সালে নরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফরের প্রসঙ্গ টানা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ইমেইলে এপস্টেইন দাবি করেছেন—তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করতেই মোদি ইসরায়েল সফরের বিষয়ে তার পরামর্শ চেয়েছিলেন।
ইমেইলের বর্ণনা অনুযায়ী, এপস্টেইন নিজেই মোদিকে ইসরায়েল সফরের পরামর্শ দেন এবং সেই পরামর্শ অনুসারেই ২০১৭ সালে সফরটি বাস্তবায়িত হয়। সেখানে মোদির বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে ইমেইলে দাবি করা হয়, এই কৌশল ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করতে কার্যকর হয়েছিল।
১৯৯২ সালে ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর ২০১৭ সালের ওই সফরই ছিল কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইসরায়েল সফর। এপস্টেইনের উদ্ধৃতি হিসেবে ইমেইলে বলা হয়, “ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ নিয়েছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে ইসরায়েলে যান। কয়েক সপ্তাহ আগেই তাদের সাক্ষাৎ হয়েছিল, আর এই পরামর্শ কাজে লেগেছে।”
তবে এপস্টেইন ফাইলে উল্লিখিত এসব দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর ইসরায়েল সফরের বিষয়টি ছাড়া ইমেইলে উল্লেখ করা অন্যান্য বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিবৃতিতে এসব বক্তব্যকে “একজন দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর কুৎসিত কল্পনা” আখ্যা দিয়ে চরম অবজ্ঞার সঙ্গে তা নাকচ করা হয়।
এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ঘিরে বিতর্ক তৈরি হলেও, সংশ্লিষ্ট অনেক পক্ষই এসব দাবিকে গুজব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছে।















