ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল ২০২৬, যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ আইনগত বৈধতা পেল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।সংসদের দিনের সম্পূরক কার্যসূচির অংশ হিসেবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিলটি উপস্থাপনের জন্য ফ্লোর দেন। প্রথমে উত্থাপনের পর স্পিকারের আহ্বানে বিলটি পুনরায় বিবেচনার জন্য আনা হয়। দফাওয়ারী কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি।বিল পাসের আগে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চান। তিনি জানান, বিলের তুলনামূলক শিট মাত্র কয়েক মিনিট আগে হাতে পেয়েছেন, ফলে তা পর্যালোচনার জন্য কিছু সময় প্রয়োজন। তবে স্পিকার জানান, আপত্তি তোলার নির্ধারিত সময় ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে, এ পর্যায়ে আর তা গ্রহণযোগ্য নয়।এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা দুঃখ প্রকাশ করলে স্পিকার বলেন, বিষয়টি পরে বিবেচনা করা যেতে পারে, তবে বিলের বর্তমান পর্যায়ে কোনো আপত্তির সুযোগ নেই। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।বিলের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী, যার লক্ষ্য একটি “সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে চিহ্নিত গোষ্ঠীর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধনও স্থগিত করেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংগঠনগত বিচারের জন্য আইসিটি আইনে সংশোধন আনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ, সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল।অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ওই অধ্যাদেশটি পরে বিশেষ কমিটির সুপারিশে সংসদে আইন হিসেবে পাসের জন্য উত্থাপিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এখন এই আইন কার্যকর হলে শুধু দলীয় কার্যক্রমই নয়, সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথ উন্মুক্ত হবে।

















