কুমিল্লার কোটবাড়ি বার্ডের প্রয়াত সাবেক ইমাম মোঃ মুসলেহ উদ্দিন সরকারের পারিবারে দীর্ঘদিন ধরে চলমান নির্যাতন, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং মানবিক অবহেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রয়াত সাবেক ইমাম মোঃ মুসলেহ উদ্দিন সরকারের দ্বিতীয় স্ত্রী ফরিদা আক্তার ও তার দুই মেয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রীর শারীরিক প্রতিবন্ধী কন্যা উম্মুল খায়ের মরিয়ম সুমি (৪৬) বছরের পর বছর ধরে অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, মুসলেহ উদ্দিন সরকারের মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারে দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে। অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় স্ত্রী ফরিদা আক্তার প্রথম সংসারের সন্তানদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করতেন, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী সুমির প্রতি ছিল চরম অমানবিকতা। তাকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে দেওয়া হতো না, এমনকি অসুস্থ অবস্থাতেও যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরিবারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের দাবি, সুমির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আত্মীয়স্বজন এলে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হতো। এদিকে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়েও দেখা দিয়েছে জটিলতা। পারিবারিক সূত্রের দাবি, জীবদ্দশায় মুসলেহ উদ্দিন সরকার সম্পত্তির অংশীদারিত্ব নির্ধারণ করে গেলেও বর্তমানে সেই বণ্টন মানা হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে শুরু করে পেনশনের অর্থ পর্যন্ত এককভাবে ভোগদখল করা হচ্ছে এবং অন্য উত্তরাধিকারীদের তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
মায়ের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তার ছেলে মোঃ মইনুদ্দিন ফয়েজও পারিবারিক চাপে পড়েছেন বলে জানা গেছে। মাস্টার্স সম্পন্ন করা এই যুবক বর্তমানে স্ত্রী ও ছোট সন্তান নিয়ে আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন পার করছেন। পরিবারের দাবি, প্রতিবন্ধী বোনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তিনি নানা মানসিক ও সামাজিক চাপের মুখে পড়েছেন।
এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ থানার এএসআই তোহিদ থেকে জানা যায়, “এটি পারিবারিক বিরোধের বিষয়। উভয় পক্ষের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীর প্রতি এমন আচরণের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সূত্র : বেঙ্গল টাইমস














