আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যেই ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনে পুলিশ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যারা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করেছে, তারা যেকোনো সময় যমুনায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ওপরও আক্রমণ চালাতে পারে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এসব কথা বলেন আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি বলেন, “আমাদের ওপর যে হামলা হয়েছে, তার ধরন শেখ হাসিনার সময়কার পুলিশি আক্রমণের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। এ থেকেই বোঝা যায়, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে।”
জাবের বলেন, হামলা হলেও ইনকিলাব মঞ্চ মনে করে ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ এই নির্বাচন দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। নির্বাচন বানচালের নীলনকশাকে উপেক্ষা করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের দাবিতে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে নেতাকর্মীরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে নেতাকর্মীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে।
পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে এক বিবৃতিতে জানায়, সরকার এ হত্যাকাণ্ডের বিচারে বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনি দিক গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।
এ প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ আল জাবের সবাইকে রোববার পর্যন্ত ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধৈর্য ধরুন। সরকার যে চিঠি পাঠাবে, তাতে কী লেখা হয়েছে, তা আমাদের দেখতে হবে। কোনো ধরনের ছলচাতুরির চিঠি আমরা মেনে নেব না।”
















