ডেস্ক রিপোর্ট | জাতীয়
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম কোন যোগ্যতায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন—এ প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রতিদ্বন্দ্বী জোটগুলোর প্রধান নেতা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন—এটাই আমাদের রাজনৈতিক রেওয়াজ। যখন সত্যিকার অর্থে নির্বাচন হতো, তখন এসব ভাষণ বিটিভিতে সম্প্রচার করা হতো, যাতে সব মানুষের কাছে তা পৌঁছে যায়। আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি, তারেক রহমান এবং ড. শফিকুর রহমান ৯ তারিখ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।”
তিনি বলেন, “বিষয়টা সেটা নয়। প্রশ্ন হলো—নাহিদ ইসলামও জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তার দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাকে ভাষণ দিতে দেওয়া হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তিনি কোন যোগ্যতায় এই জায়গায় এলেন?”
জাহেদ উর রহমান বলেন, “আমরা জানি, নাহিদ ইসলামের দল এনসিপি জামায়াত জোটের অংশ। সেই জোটের প্রধান নেতা ড. শফিকুর রহমান ভাষণ দেবেন—এটাই স্বাভাবিক। অতীতেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রধানরাই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতেন। এবারও তারেক রহমান ও ড. শফিকুর রহমান দেবেন—এটাই হওয়ার কথা।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি, ড. ইউনূসের আশপাশে থাকা ছাত্রদের প্রতি একটি স্পষ্ট বায়াস কাজ করছে। আগে যখন তিনটি প্রধান দল হিসেবে বৈঠকে ডাকা হতো, তখন এনসিপিকেও ডাকা হতো। তখন পর্যন্ত আমরা কিছুটা ছাড় দিয়েছি, কারণ তখনো দলটি নিজেদের ইনডিপেনডেন্ট হিসেবে উপস্থাপন করছিল।”
ডা. জাহেদ উর রহমানের মতে, “এখন এনসিপি আর কোনোভাবেই ইনডিপেনডেন্ট দল নয়। ফলে এখন নাহিদ ইসলামকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কোনো যুক্তিই নেই। আমি ভেবেছিলাম, ড. ইউনূস হয়তো নির্বাচনের সময় অন্তত নিরপেক্ষতার জায়গাটা বজায় রাখবেন।”
তিনি বলেন, “ড. ইউনূস এমন একটি দায়িত্বে আছেন, যেখানে সবার প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি থাকা জরুরি। নির্দিষ্ট একটি দলকে বিশেষ সুবিধা দিলে প্রশ্ন আরও বাড়বে। সরকারকে এখনই থামতে হবে। আমি মনে করি, নাহিদ ইসলামকে কোনোভাবেই বিটিভিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে দেওয়া উচিত নয়।”
















