ডেস্ক রিপোর্ট : ভোট দেওয়া শুধু নাগরিক দায়িত্বই নয়, অনেকের কাছে এটি একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। সাম্প্রতিক সময়ে ভোট দেওয়ার পর ছবি বা সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার প্রবণতাও বেড়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে—আগামীকালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে সেলফি তোলা কি বৈধ?
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এক ধরনের সমন্বিত অবস্থান জানিয়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের স্বাধীনতা ও ভোটের গোপনীয়তার মধ্যে একটি স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দিয়েছে কমিশন।
মোবাইল নেওয়া যাবে, তবে শর্তসাপেক্ষ
দীর্ঘ আলোচনা ও বিতর্কের পর ইসি সচিবালয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে জানিয়েছে, ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সময় মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারবেন। তবে কেন্দ্রের ভেতরে ফোনটি অবশ্যই সুইচ অফ বা সাইলেন্ট মোডে রাখতে হবে।
ভোট দেওয়ার পর কেন্দ্রের আঙিনায় দাঁড়িয়ে ছবি বা সেলফি তোলার বিষয়ে সরাসরি কঠোর নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ—ভোটের শৃঙ্খলা ও গোপনীয়তা ব্যাহত করে এমন কোনো কাজ করা যাবে না।
গোপন কক্ষে মোবাইল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গোপন কক্ষ বা ব্যালট পেপারে সিল দেওয়ার স্থানে মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। কোনো ভোটার ব্যালট পেপারসহ ছবি বা সেলফি তুললে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ, ভোটের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে থাকবে বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা এবং আকাশপথে নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হবে ড্রোন। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও ভোটারদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বহনের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে যোগাযোগের সুবিধার্থে।
তবে কোনো প্রিসাইডিং অফিসার যদি মনে করেন মোবাইল ব্যবহারের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে, তাহলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ফোন জব্দ করা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
ভোটারদের জন্য সতর্কবার্তা
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরামর্শ—“একটি সেলফির কারণে যেন আপনার ভোট বাতিল না হয়ে যায়।” ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় মোবাইল ফোনটি পকেট বা ব্যাগে রাখুন এবং গোপন কক্ষে প্রবেশের আগে নিশ্চিত করুন সেটি বন্ধ রয়েছে।
মনে রাখতে হবে, আঙুলের কালির দাগই আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রমাণ—ব্যালট পেপারের সেলফি নয়।


















