বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ (৩১ জানুয়ারি) সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্প পার্ক মাঠে নির্বাচনী জনসভায় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে অনেকেই বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করবে—তাদের দেখামাত্রই বলে দিতে হবে, “গুপ্ত তোমরা”। “পারবেন তো বলতে?”—এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি জনতাকে সতর্ক করেন।
তারেক রহমানের মতে, যারা গত ১৬ বছর ধরে জনগণের পাশে ছিল না, দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল বা তলে তলে মিশে ছিল—তারাই এখন নতুন করে ষড়যন্ত্রে নেমেছে। “যারা বিভ্রান্তিমূলক কথা ছড়াবে, তাদের একটাই নাম—‘গুপ্ত’। কারণ গত ১৬ বছর আমরা তাদের দেখিনি।”
জনসভায় তিনি জোর দিয়ে বলেন, মানুষ ভরসা করে শুধু পরীক্ষিত ও বিশ্বস্তদের ওপর। “করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ” এই স্লোগান বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গত ১৫-১৬ বছরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে মানুষ, আন্দোলনে অনেক পরিবার প্রিয়জন হারিয়েছে—এখন সময় দেশ গড়ার।
তিনি বিএনপির কয়েকটি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন:
- কৃষি খাত: কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো। ঘরে বসে সার, বীজ, কীটনাশক পাওয়ার জন্য আলাদা কৃষি সহায়তা কার্ড চালু।
- তাঁত শিল্প: সিরাজগঞ্জের তাঁতকে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানিযোগ্য করে তোলা, প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে শিল্পায়ন।
- নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন: নারীদের স্বাবলম্বী করতে শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব, ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে আর্থিক স্বাধীনতা।
- যুব ও তরুণ সমাজ: দেশী-বিদেশী প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি, যাতে তারা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পাশাপাশি দেশের সুনাম বাড়াতে পারে।
তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপি ছাড়া এখন দেশ চালানোর অভিজ্ঞতা কারও নেই। “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করুন। শুধু বক্তব্য শুনলে হবে না—ভোট দিয়ে জয় ছিনিয়ে আনতে হবে।”
জনসভায় সিরাজগঞ্জ ও পাবনার বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তিনি এবং তাদের জয়ের আহ্বান জানান। সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি বেগম রোমানা মাহমুদ, সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু। বক্তব্য দেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিম রেজা, ড. এম. এ. মুহিতসহ অন্যান্য নেতারা।
প্রায় ২০ বছর পর সিরাজগঞ্জে এসে তারেক রহমানের এই জনসভা জনতার ঢলে ভরে ওঠে।
















