ঢাকা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাত ২১:০৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স পরীক্ষায় শহীদ শরীফ ওসমান হাদির দুটি বিখ্যাত উক্তি উল্লেখ করে মানবাধিকার আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা বিশ্লেষণ করতে বলা হয়েছে। এই প্রশ্নপত্র প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত মাস্টার্স দ্বিতীয় সেমিস্টারের কোর্স ‘পলিটিক্স অ্যান্ড ল: গ্লোবাল অ্যান্ড ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনস, ইন্সট্রুমেন্ট অ্যান্ড ইস্যুজ’-এর চূড়ান্ত পরীক্ষায় এই প্রশ্ন রাখা হয়। প্রশ্নপত্রে ওসমান হাদির দুটি বক্তব্য—‘জান দেবো, তবু জুলাই দেবো না’ এবং ‘আমি আমার শত্রুর সাথেও ইনসাফ করতে চাই’—উল্লেখ করে এসব উক্তির আলোকে মানবাধিকারের পক্ষে তাঁর সংগ্রাম ও অবদান বিশ্লেষণ করতে বলা হয়েছে।
একই প্রশ্নপত্রে ‘আয়নাঘর’ নিয়েও একটি প্রশ্ন ছিল। সেখানে জানতে চাওয়া হয়েছে, স্বৈরতান্ত্রিক শাসন টিকিয়ে রাখার জন্য ‘আয়নাঘর’ কীভাবে একটি ‘সিস্টেমেটিক টুল’ হিসেবে কাজ করেছিল।
কোর্সের শিক্ষক অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, “দেশের উচ্চশিক্ষায় সমসাময়িক বাস্তবতা প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। কিন্তু জুলাই বিপ্লব, আয়নাঘর এবং শহীদ ওসমান হাদির আগ্রাসনবিরোধী প্রতিরোধ—যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ন্যায়ের ধারণা ছিল—এসব বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গবেষণা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উচ্চতর গবেষণায় আগ্রহী করতেই এসবকে অ্যাকাডেমিক আলোচনায় নিয়ে আসা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “চলতি ও গত বছরের অনেক পরীক্ষার্থী জুলাই বিপ্লবের অগ্রসৈনিক। তাদের সহযোদ্ধাদের কেউ শহীদ হয়েছেন, কেউ স্থায়ীভাবে আহত বা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। তাই নিজেদের তৈরি ইতিহাস নিয়ে চর্চা করার অধিকার তাদের রয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত বছরও একই বিভাগের মাস্টার্স পরীক্ষায় জুলাই বিপ্লব সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন আসায় ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। এবার শহীদ ওসমান হাদির উক্তি ও ‘আয়নাঘর’ নিয়ে প্রশ্ন রাখায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ এটিকে শিক্ষার্থীদের ইতিহাস সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ বলছেন, আবার কেউ কেউ এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

















