ইরানে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক দুরাবস্থার প্রতিবাদে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ শুক্রবার আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশটির কর্তৃপক্ষ সারা দেশে ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, শুক্রবার থেকে ইরান কার্যত বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। দেশটি থেকে কোনো আন্তর্জাতিক ফোন কল করা যাচ্ছে না, একইভাবে বাইরে থেকেও ইরানে ফোন সংযোগ সম্ভব হচ্ছে না।
এ ছাড়া বহু আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ইরানের অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোও নিয়মিত আপডেট দিতে পারছে না।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী তেহরানসহ দেশটির একাধিক বড় শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং বিভিন্ন সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি-র তথ্য অনুযায়ী, খামেনি সরাসরি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ তোলেন।
তিনি বলেন,
“আমরা কোনোভাবেই পিছু হটব না। বিদেশি ‘ভাড়াটে’দের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
ভাষণে খামেনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে আরও বলেন,
“গতরাতে তেহরানে একদল দাঙ্গাবাজ রাষ্ট্রীয় ভবন ধ্বংস করেছে—শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মন জয় করার জন্য।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইরান সরকারের গভীর উদ্বেগ ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কাকেই স্পষ্ট করে তুলছে।

















