নির্বাচনী হলফনামায় আয়ের উৎস সংক্রান্ত তথ্যকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে আল্লামা তাহেরীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। কিছু হলুদ ও পক্ষপাতদুষ্ট গণমাধ্যম তাঁর হলফনামার একটি নির্দিষ্ট কলামকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে ‘সুদের টাকা গ্রহণ’—এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালালেও একই ধরনের তথ্য থাকা সত্ত্বেও অন্যান্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মূলধারার মিডিয়া রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে বলে দাবী করছে নেটিজেনরা।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর দাখিলকৃত হলফনামা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার ৬ নং কলামের ‘আয়ের উৎস’-এর ৪ নং ঘরে তিনি শেয়ার/বন্ড/সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত/সুদ বাবদ বছরে ৬৩ হাজার ৪৭১ টাকা আয় দেখিয়েছেন। এই কলামটিতেই আল্লামা তাহেরী তাঁর আয়ের উৎস হিসেবে ২২ হাজার ৮৯২ টাকা উল্লেখ করেছিলেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, হলফনামার এই নির্দিষ্ট ঘরটি একটি যৌথ ক্যাটাগরি—যেখানে শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত এবং সুদ—এই পাঁচটি উৎস একসাথেই উল্লেখ করতে হয়। এর মধ্যে কোন উৎস থেকে ঠিক কত টাকা এসেছে, তা আলাদা করে লেখার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি এখানে তথ্য অসম্পূর্ণ রাখলে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তবুও তাহেরীর ক্ষেত্রে কোনো প্রকার নিশ্চিত যাচাই ছাড়াই কিছু গণমাধ্যম সরাসরি এটিকে ‘সুদের আয়’ হিসেবে চিহ্নিত করে সংবাদ প্রকাশ করে। অথচ একই ফরম্যাটে জামায়াত প্রার্থীর উল্লেখ করা ৬৩,৪৭১ টাকা কি ব্যাংক আমানতের সুদ? নাকি শেয়ার বা সঞ্চয়পত্র? এ বিষয়ে কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, প্রশ্ন কিংবা আলোচনা চোখে পড়েনি।
এ বিষয়ে ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংক আমানতের আয় মানেই তা সুদ—এমন সরলীকরণ সব সময় সঠিক নয়। বিভিন্ন বিনিয়োগ স্কিম, ইসলামী ব্যাংকিং মুনাফা, মেয়াদি ডিপোজিটের প্রফিট শেয়ারিংসহ নানা উপায়ে আয় হতে পারে, যা সরাসরি সুদের সঙ্গে এক কাতারে ফেলা যায় না। অথচ এই বাস্তবতা যাচাইয়ের প্রয়োজন বোধ করেনি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলো।
















