ডেস্ক রিপোর্ট | জাতীয়
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশের ‘পরবর্তী সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ডিপ্লোম্যাট।
‘An Interview With Tarek Rahman—Likely Bangladesh’s Next Prime Minister’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে নির্বাচনের আগে পরিচালিত একাধিক জনমত জরিপের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের আবির্ভাবের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। দ্য ডিপ্লোম্যাট-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ খবর প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস।
প্রতিবেদনে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, এর আগেও ব্লুমবার্গ, টাইম ও দ্য ইকোনমিস্টের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে তারেক রহমানকে এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
দ্য ডিপ্লোম্যাট জানায়, গত ডিসেম্বরে পরিচালিত এক জনমত জরিপে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতি প্রায় ৭০ শতাংশ সমর্থনের তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন পাওয়া গেছে ১৯ শতাংশ। অন্যদিকে, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনোভিশন কনসালটিংয়ের এক জরিপে দেখা যায়, ৪৭ শতাংশের বেশি মানুষ তারেক রহমানকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখছেন, যেখানে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে মত দিয়েছেন ২২ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা।
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জেনারেশন জেড (জেন জি) ভোটারদের ভূমিকার ওপর। বলা হয়, এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা একটি বড় নির্ধারক শক্তি হিসেবে সামনে এসেছে এবং এই প্রজন্মের বড় অংশই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দ্য ডিপ্লোম্যাট উল্লেখ করে, জেন জি ভোটারদের একটি বড় অংশ বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন, বিশেষ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আয়োজিত কর্মসূচিগুলোতে। প্রতিবেদনের জন্য দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিরাজগঞ্জের একটি জনসভা শেষে টাঙ্গাইলের একটি কেন্দ্রীয় নির্বাচনী সমাবেশে যাওয়ার পথে বাসে বসেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। তরুণ ভোটারদের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা জেন জি’র ভাবনার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছি। কর্মসংস্থান, কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা, আইটি খাত ও চাকরির বাজারকে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি—যা তরুণদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
তিনি আরও জানান, ‘দ্য প্ল্যান’ নামে একটি উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত মতবিনিময় করেন। “তাদের চিন্তা ও ধারণা শুনতে আমি সত্যিই আগ্রহী,” বলেন তারেক রহমান।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশে ভারতমুখী কূটনীতির সমালোচনা রয়েছে। এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। তিনি জানান, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থনীতিকেন্দ্রিক কূটনীতি অনুসরণ করা হবে এবং পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে।
দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেন জি ভোটারদের একটি অংশকে আকৃষ্ট করতে পারে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটিকে তিনি কোনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেন না। “জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কোন পরিকল্পনা তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো,” বলেন তিনি।
অর্থনীতি প্রসঙ্গে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার অঙ্গীকারকে কঠিন হলেও অসম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি আইটি, সেমিকন্ডাক্টর, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, জুতা শিল্প ও এসএমই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
দুর্নীতি, অর্থপাচার ও ঋণখেলাপি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, শক্তিশালী আর্থিক সুশাসন ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাই পারে এসব সমস্যার সমাধান দিতে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
শেষে তিনি বলেন, বিএনপি তাদের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে চায়। “মানুষের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠাই আমার সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার,”—বলেন তারেক রহমান।
















