বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, একটি গোষ্ঠী যাদের তিনি ‘নতুন জালিম’ ও ‘গুপ্তের দল’ বলে উল্লেখ করেন, তারা বিভিন্ন স্থানে ভুয়া সিল ও ব্যালট ছাপানোর সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চলছে।
বুধবার বরিশাল নগরের বান্দ রোডে বেলস পার্কে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান এসব অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকেই জানা যাচ্ছে, ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু প্রেসে অবৈধভাবে সিল ও ব্যালট ছাপানো হচ্ছে, যা পরবর্তীতে পকেটে করে ভোটকেন্দ্রে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তারেক রহমানের দাবি, শুধু ভুয়া সিল বা ব্যালটই নয়, বিভিন্ন জায়গায় নারী ভোটারদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও মোবাইল আর্থিক সেবার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা অনৈতিক কাজ দিয়ে নির্বাচনের সূচনা করে, তারা কখনো সৎ মানুষের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, এসব কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্টরা দায় এড়াতে নানা অজুহাত দিচ্ছেন। “মা-বোনদের অপমান করার পর তারা বলছে, আইডি নাকি হ্যাক হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে বলেছেন, আইডি হ্যাক হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। ধরা পড়ার পরই তারা মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে,”—বলেন তারেক রহমান।
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে হেলিকপ্টারে করে বরিশাল স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে পৌঁছান বিএনপি চেয়ারম্যান। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বরিশাল সফরে আসেন তিনি। হেলিকপ্টার থেকে নামার পর বরিশাল বিভাগ ও জেলার শীর্ষ নেতারা তাকে স্বাগত জানান।
তারেক রহমানের আগমন ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বেলস পার্ক ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সকাল থেকেই বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জনসভাস্থলে জড়ো হন তাকে এক নজর দেখার জন্য।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৬ সালে বরিশাল সফর করেছিলেন তারেক রহমান। তখন তিনি বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। চেয়ারম্যান হিসেবে এবারের সফরকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা।














