নগদ অর্থ বৃদ্ধি ৩ গুণের বেশি, ঢাকায় ফ্ল্যাট বেড়েছে ৫টি
জাতীয় নির্বাচন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:১৫
২০১৯ সালে বিএনপির মনোনয়নে একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এরপর ছয় বছরের ব্যবধানে তাঁর ঘোষিত আয় ও সম্পদের পরিমাণে ঘটেছে বিস্ময়কর উল্লম্ফন। ২০১৯ ও ২০২৫ সালের জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ সময়ে তাঁর বার্ষিক আয় বেড়েছে ২২ গুণেরও বেশি। একই সঙ্গে নগদ অর্থ বেড়েছে তিন গুণের বেশি এবং ঢাকায় তাঁর নামে ফ্ল্যাটের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০১৯ সালের ৩ আগস্ট সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় তৎকালীন সরকারের কাছে ১০ কাঠা জমি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছিলেন রুমিন ফারহানা। সংসদ সদস্যদের প্যাডে করা ওই আবেদনে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন, ঢাকায় তাঁর নিজের নামে কোনো ফ্ল্যাট, জমি কিংবা বসতভিটা নেই। তবে ছয় বছর পর, ২০২৫ সালে জমা দেওয়া সর্বশেষ হলফনামায় দেখা যায়, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় তাঁর নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও জমির মালিকানা রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল–আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত ২৯ ডিসেম্বর সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।
২০১৯ সালের হলফনামায় রুমিন ফারহানা তাঁর বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ টাকা। এর মধ্যে আইন পেশা থেকে আয় ছিল ৪ লাখ টাকা এবং ব্যাংক আমানতের সুদ থেকে আয় ছিল ৩৪ হাজার ১০০ টাকা। কিন্তু ২০২৫ সালের হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর ঘোষিত বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে ৯৭ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। পেশা হিসেবে তিনি নিজেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ ছয় বছরের ব্যবধানে তাঁর আয় বেড়েছে অন্তত ২২ গুণ।
নগদ অর্থের পরিমাণেও বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০১৯ সালে তাঁর হাতে নগদ অর্থ ছিল ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৪২২ টাকা। ২০২৫ সালের হলফনামায় এই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা রয়েছে ৩০ লাখ ৪২ হাজার ৬৯৪ টাকা এবং হাতে নগদ রয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৭৯ টাকা। হিসাব অনুযায়ী, ছয় বছরে তাঁর নগদ অর্থ বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি।
স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আরও চোখে পড়ার মতো। ২০১৯ সালে তিনি তাঁর স্থাবর সম্পদ হিসেবে শুধু একটি ফ্ল্যাটের কথা উল্লেখ করেছিলেন, যা তিনি মায়ের কাছ থেকে পেয়েছিলেন। তবে ২০২৫ সালের হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মালিকানায় রয়েছে ধানমন্ডির ল্যাবরেটরি রোডে ৫ কাঠা জমি, একই এলাকায় পাঁচটি ফ্ল্যাট, মায়ের কাছ থেকে পাওয়া আরও একটি ফ্ল্যাট এবং পুরান ঢাকার পল্টনে ১ হাজার ২৫৮ দশমিক ৮৮৪ বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক স্পেস, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, এসব স্থাবর সম্পদের অধিকাংশই উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত। এ কারণে সেগুলোর ক্রয়মূল্য দেখানো হয়নি এবং মোট সম্পদের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। একইভাবে উপহার হিসেবে পাওয়া ১০ ভরি স্বর্ণালংকারের মূল্যও নগদ সম্পদের মোট হিসাবে যোগ করা হয়নি।
আইনি অবস্থান প্রসঙ্গে দেখা যায়, ২০১৯ সালে তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা তিনটি মামলা ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন ছিল। সর্বশেষ হলফনামা অনুযায়ী, নতুন আরেকটি মামলাসহ আগের সব মামলা একই আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে নিষ্পত্তি হওয়া এসব মামলার কোনো উল্লেখ নতুন হলফনামায় নেই।
নির্বাচনী ব্যয়ের ক্ষেত্রেও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন রুমিন ফারহানা। হলফনামা অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে তিনি মোট ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছেন। এর মধ্যে ২০ লাখ টাকা আসবে তাঁর নিজস্ব আয় থেকে, যা মূলত আইন পেশা থেকে অর্জিত। বাকি ৫ লাখ টাকা তিনি ধার নেবেন তাঁর খালাতো ভাই, প্রবাসী গালিব মেহেদীর কাছ থেকে।
উল্লেখ্য, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ–আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে রুমিন ফারহানাকে বহিষ্কার করা হয়।
















