ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হককে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ১১-দলীয় ঐক্যজোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আল্লামা মামুনুল হক যদি নির্বাচনে বিজয়ী হন, তাহলে ইনশাআল্লাহ এলাকাবাসী একজন মর্যাদাবান ও যোগ্য মন্ত্রী পাবেন। আমরা ক্ষমতায় গেলে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলব, যেখানে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অন্যায়ের কোনো স্থান থাকবে না।”
জামায়াত আমিরের এই ঘোষণা দলটির সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার রূপরেখা স্পষ্ট করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। গত কয়েক সপ্তাহে বিভিন্ন নির্বাচনি জনসভায় তিনি একাধিক প্রার্থীকে মন্ত্রী পদের আশ্বাস দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঘোষণা:
- ৮ ফেব্রুয়ারি, বাড্ডায় জনসভায়: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি যুব নেতৃত্বের প্রতি আস্থার কথা তুলে ধরেন।
- ৩১ জানুয়ারি, কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে: জামায়াতের নায়েবে আমির ও ওই আসনের প্রার্থী ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে মন্ত্রিসভার সিনিয়র সদস্য হিসেবে দেখার আশ্বাস দেন।
- ২ ফেব্রুয়ারি, কক্সবাজারের মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে: জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করার ইঙ্গিত দেন।
- ২৪ জানুয়ারি, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়: ১০-দলীয় ঐক্য সরকার গঠিত হলে প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানকে মন্ত্রী করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এসব ঘোষণায় জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনী প্রচারণায় জোটের মিত্রদের প্রতি আস্থা ও সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি নিজ দলের প্রার্থীদেরও গুরুত্বপূর্ণ পদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। ডা. শফিকুর রহমানের এই ধারাবাহিক বক্তব্য নির্বাচনী মাঠে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জোটের সমর্থকরা এটিকে ঐক্যের শক্তি হিসেবে দেখলেও, সমালোচকরা এতে মন্ত্রিত্ব বিতরণের মাধ্যমে ভোট আকর্ষণের চেষ্টা বলে মন্তব্য করছেন।
১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের আগে এ ধরনের ঘোষণা জোটের ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করলেও, ফলাফলের পর মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া কতটা বাস্তবায়িত হয়, তা নির্ভর করবে নির্বাচনী ফলাফল ও জোটের আসন সংখ্যার ওপর।
















