আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক গণভোট ব্যবস্থার বর্তমান পদ্ধতিকে ‘যন্ত্রণাদায়ক ও পেরেশানিকর’ বলে সমালোচনা করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং ‘না’ ভোট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়।
গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জুমার খুতবায় মুফতি আবদুল মালেক বলেন, গণভোটে পাঁচ থেকে আটটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একসঙ্গে রাখা হয়েছে, কিন্তু প্রতিটি বিষয়ে আলাদাভাবে মতামত প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে ‘হ্যাঁ’ বলতে হলে সবকটি বিষয়ে সম্মতি জানাতে হয়, আর ‘না’ বলতে হলে সবকটিতেই অসম্মতি—যা ভোটারকে জোরপূর্বক একটি অবস্থানে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা বিকল্প কেন রাখা হলো না?”
ভোটকে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে একটি পবিত্র ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করে খতিব বলেন, একজন ভোটার কোনো বিষয়ে একমত এবং অন্য বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতেই পারেন। বর্তমান ব্যবস্থা সেই স্বাভাবিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “সরকার বা কোনো রাজনৈতিক দল যেকোনো একটি পক্ষে উৎসাহ দিলেও, অন্য পক্ষ বেছে নেওয়া জনগণের আইনি ও নৈতিক অধিকার। এতে কোনো অপরাধ নেই।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, অনেক দল ইসলামের নাম ব্যবহার করলেও তাদের কর্মকাণ্ড সেকুলার বা ধর্মহীন ধারার হতে পারে। তাই মুসলিম উম্মাহকে ভোটাধিকার প্রয়োগে অত্যন্ত সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। দলমত নির্বিশেষে ইসলামের মূল চেতনা ও নৈতিকতাকে বিসর্জন না দিয়ে যোগ্য প্রার্থী বেছে নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন খতিব।
এই খুতবা নির্বাচনী প্রচারের মাঝে ধর্মীয় নেতৃত্ব থেকে ভোটারদের স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর জোরালো বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
















