অনুমোদনহীন ডিগ্রি ব্যবহার করে চিকিৎসা কার্য পরিচালনার অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম মনোনীত ঢাকা–১৭ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও বাংলাদেশ ফার্টিলিটি হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে শোকজ নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিশে এ বিষয়ে তাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ডা. খালিদুজ্জামান তার প্রচারপত্র ও পরিচিতিতে ‘ক্লিনিকাল এমব্রিওলজি ও প্রি–ইমপ্লান্টেশন জেনেটিক্স (ভারত)’ ডিগ্রি ব্যবহার করে চিকিৎসা কার্য পরিচালনা করছেন। তবে এই ডিগ্রি বিএমডিসি কর্তৃক স্বীকৃত নয়। ফলে এ ধরনের ডিগ্রি ব্যবহার বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইনের সরাসরি লঙ্ঘন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বিএমডিসি জানায়, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০–এর ধারা ১৩ অনুযায়ী, দেশে বা বিদেশে অর্জিত কোনো মেডিকেল স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ব্যবহার করতে হলে কাউন্সিলের স্বীকৃতি থাকা বাধ্যতামূলক। একই আইনের ধারা ২৯ অনুসারে, স্বীকৃত যোগ্যতা ছাড়া কোনো পদবি, নাম বা বিবরণ ব্যবহার করা নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।
নোটিশে আরও বলা হয়, অনুমোদনহীন ডিগ্রি ব্যবহার রোগীর সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এ অপরাধে দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া হতে পারে। একই অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে প্রতিবার অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে ডা. খালিদুজ্জামানকে তার ব্যবহৃত ডিগ্রির বৈধতা ব্যাখ্যা করে এবং বিএমডিসি থেকে প্রাপ্ত রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে শোকজ নোটিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সদস্য আদনান কাফি সাংবাদিকদের পাঠানো এক আমন্ত্রণপত্রে জানান, শোকজ সংক্রান্ত বিষয়ে ডা. এসএম খালিদুজ্জামান মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন।
















