জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার ও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রতি বছর ৩০ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে দলটির ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের অংশ হিসেবে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এনসিপি। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’ শিরোনামে ঘোষিত ৩৬ দফার সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন। এতে প্রতিরক্ষা খাতে সংস্কার ও আধুনিকায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘গণপ্রতিরক্ষা’ দর্শনের আলোকে একটি শক্তিশালী ‘রিজার্ভ ফোর্স’ গঠন করা হবে। এর আওতায় প্রতিবছর নির্বাচিত তরুণদের ১০ সপ্তাহের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেসিক অস্ত্র ব্যবহার ও সামরিক কৌশলে দক্ষ করে তোলা হবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা তিন বাহিনীর জন্য কমব্যাট-রেডি রিজার্ভ হিসেবে এবং দুর্যোগকালীন সহায়তায় প্রস্তুত থাকবেন। রিজার্ভ সদস্যদের বছরে অন্তত দুই সপ্তাহ রিফ্রেশার ট্রেনিংয়ের বাধ্যবাধকতাও থাকবে।
দলটির লক্ষ্য, দীর্ঘমেয়াদে প্রচলিত সামরিক বাহিনীর দ্বিগুণ আকারের একটি রিজার্ভ ফোর্স গড়ে তোলা। এ জন্য প্রশিক্ষণ অবকাঠামো তৈরিতে এককালীন প্রায় ৫০০ কোটি টাকা এবং প্রতিবছর পরিচালন ব্যয় হিসেবে ৪০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এনসিপির মতে, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি সম্ভব নয়। বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান, বৈশ্বিক উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধ অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন জরুরি।
ইশতেহারে আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারের কথাও বলা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে মাঝারি পাল্লার অন্তত আটটি সারফেস-টু-এয়ার (এসএএম) মিসাইল ব্যাটারি সংগ্রহ করা হবে, যা ভবিষ্যতে দূরপাল্লার ব্যবস্থায় উন্নীত করা যাবে।
এ ছাড়া আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি অধিগ্রহণ, দেশীয় সামরিক গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে সেনাবাহিনীতে একটি পূর্ণাঙ্গ ইউএভি (আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল) ব্রিগেড গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে এনসিপি।
















